গিলগিট-বাল্টিস্তান কেন গুরুত্বপূর্ণ

গিলগিট-বাল্টিস্তান। ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ছবি

উপসাগরীয় তেলের জন্য চীনের ক্রমর্ধমান ক্ষুধা দেশটির সামনে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর কৌশলগত ও সামরিক ভূমিকা পালনের দরজা খুলে দিয়েছে। প্রকৃতির দানে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অবস্থানের অধিকারী ইরান ও পাকিস্তানও এই দ্বিমেরু বিশ্বে ভালোভাবেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। আর চীনের উত্থান এরই লক্ষণ। পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার জোট ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

ভারত মহাসাগরে বৈধতা খুঁজে নেয়ার প্রেরণা থেকে পাকিস্তানের উপকূলীয় এলাকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে হবে চীনকে।

এসব ঘাঁটি জালের মতো বিস্তৃত রেল ও সড়ক পথের মাধ্যমে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ শিনঝিয়াংয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। আর এই পথের নেটওয়ার্কই তৈরি হচ্ছে গিলগিল-বাল্টিস্তানের মধ্য দিয়ে। চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের (সিপিইসি) মাধ্যমে এই আঞ্চলিক কানেকটিভি তৈরির স্বপ্ন দেখছে ভারত। চীন ও পাকিস্তান এই সিপিইসি-কে মধ্য এশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চায়।

এ ব্যাপারে চীনের সদিচ্ছা নিয়ে অনেক দেশ সন্দিহান। বিশেষ করে সিপিইসি গিলগিট-বাল্টিস্তানের মতো বিতর্কিত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করায়, যে ভূখণ্ডটি ভারতও দাবি করছে।

ভারত মনে করে পাকিস্তানে চীনের কর্মকাণ্ড ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেই বিনষ্ট করে দেবে। বালুচিস্তানে চীনের নৌঘাঁটি হলে সেগুলো হবে ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য হুমকি। অন্যদিকে গিলিগিট-বাল্টিস্তানে চীনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতির মানে হলো মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজি্যক সংযোগটি পুনরুজ্জীবিত করার ভারতীয় স্বপ্ন নস্যাৎ হওয়া।

ভারতের দাবি সত্ত্বেও গিলগিট-বাল্টিস্তানকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে চীন। বেইজিং প্রায়ই সেখামে মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সফরের জন্য নিয়ে যায়।

তাছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া গিলগিট-বাল্টিস্তানকে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ হিসেবে অভিহিত করে। ২০০৯ সালে দুই দেশ কাশগড় ও গিলগিটকে সিস্টার সিটি হিসেবে ঘোষণা করে সাচিবিক সমন্বয় জোরদার করে। এবার গিলগিট-বাল্টিস্তান ও শিনঝিয়াংকে সিস্টার সিটি ঘোষণা করে দুই অংশের মধ্যে সম্পর্ক পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

গিলগিল-বাল্টিস্তানে স্বার্বভৌমত্ব সম্প্রসারণ করে পাকিস্তান সংস্কার শুরু করলে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত মুনাফা অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করা হয়। এটা চীনের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনাও কমিয়ে দেবে।

একটি মন্তব্য করে যান

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন