মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রতিবেদন গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল বিশ্বকে

পশ্চিম পাকিস্তানিদের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেছেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস

বাঙালির আবহমান কালের এক মাইলফলক ১৯৭১। এক মহিমান্বিত ইতিহাস রচনা হয়েছে ১৯৭১ সালে। রক্ত, অশ্রু আর অপরিসীম আত্মত্যাগের ভেতর দিয়ে একাত্তরে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের শুরু থেকেই বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, নৃশংস বর্বরতা, ধ্বংসযজ্ঞ, শরণার্থীদের দুর্ভোগ ও নিপীড়নের বর্বরতার কাহিনী খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বর্বরতার চিত্র যারা তুলে ধরেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সাহসী সাংবাদিক ছিলেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস।

ক্ষমতার পালাবদল কিংবা ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে যা-ই ঘটুক, দেখার জন্য মার্চের শুরু থেকেই বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আগমন ঘটছিল। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যখন হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠল, তার সাক্ষী হয়ে রইলেন ক’জন বিদেশি সাংবাদিক। ৩৫ জন বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিকে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্য আটকে রাখা হয় ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। ২৭ মার্চ বলপ্রয়োগ করে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। সাংবাদিকেরা হোটেল থেকেই দেখতে পেয়েছেন, পূর্ব পাকিস্তানি বিদ্রোহীদের সমর্থক নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনকে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুলি করছে। বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় করাচির উদ্দেশে বিদেশি সাংবাদিকদের উড়োজাহাজে তোলার আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সংবাদদাতা সিডনি শনবার্গসহ অন্য সাংবাদিকদের তল্লাশি করা হয়। তাদের নোটবই, ছবির ফিল্ম ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। বহিষ্কৃত সাংবাদিকেরা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান ও রাশিয়ার সংবাদপত্রসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মরত ছিলেন।

অ্যন্থনি মাসকারেনহাস এর পরিচয়

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Anthony Mascarenhas) দক্ষিণ এশিয়ার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। তার পুরো নাম নেভিল অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস। তিনি ভারতের গোয়ায় ১৯২৮ সালের ১০জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং পড়াশোনা করেন পাকিস্তানের করাচিতে। জন্মসূত্রে মাসকারেনহাস ভারতীয় গোয়ানিজ খ্রিস্টান। তবে বসবাস করেছেন পাকিস্তানের করাচিতে। ইয়ন মাসকারেনহাস নাম্নী এক রমণীকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে পাঁচ সন্তান রয়েছে।

১৯৪৭ সালে করাচিতে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রয়টার্স। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সংবাদ সংস্থা, এপিপি, নিউইয়র্ক টাইমস এবং টাইম/লাইফ সাপ্তাহিকের সংবাদদাতা ছিলেন। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭১ সালের মে মাস পর্যন্ত দ্য মর্নিং নিউজ-এ কর্মরত ছিলেন; প্রথমে চিফ রিপোর্টার এবং পরে সহ-সম্পাদক হিসেবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় তিনি বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা ও অন্যান্য ঘটনা পর্যবেক্ষণপূর্বক বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম উন্মোচিত করেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে লিখেন যা বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করে তুলতে সাহায্য করেছিল। এ বিষয় নিয়ে তিনি বইও লিখেছেন। তিনি ব্রিটেনের দ্য সানডে টাইমস পত্রিকায় ১৪ বছর কাজ করার পর ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেন।

বাংলাদেশে আগমন

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা বিশ্ববাসীকে জানানোর উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সামরিক সরকার আট জন সাংবাদিককে ঢাকায় নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব বাংলায় যে তাদের ভাষায় সব কিছুই স্বাভাবিক সেটি তুলে ধরা। যখন সাংবাদিকরা পূর্ব বাংলা পর্যবেক্ষণ করে আবার পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান, তখন তাদের মধ্যে সাতজন সাংবাদিক পাকিস্তানী শাসকদের চাহিদা অনুযায়ী রিপোর্ট করেন।

পশ্চিম পাকিস্তানীদের বর্বরতার কাহিনী খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেনর অ্যান্থনি

কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটে করাচির মর্নিং নিউজের সাংবাদিক এবং ব্রিটেনের সানডে টাইমস পত্রিকার পাকিস্তান সংবাদদাতা অ্যান্থনি মাসকারেনহাস-এর ক্ষেত্রে। তিনি প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সহযোগিতার বদলে তুলে ধরেন প্রকৃত চিত্র। তার করা নিবন্ধের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো দেশটির পূর্ব অংশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন আর নিষ্ঠুরতার বিষয়টি বিশ্বের সামনে উঠে আসে।

‘জেনোসাইড’: ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ প্রতিবেদন

গত অর্ধশতকের শ্রেষ্ঠ রিপোর্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মাসকারেনহাসের ‘জেনোসাইড’। আর এর মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে ঠিক কীভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিদারুণ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল বাংলাদেশে।

‘‘আবদুল বারীর ভাগ্য ফুরিয়ে আসছিল। পূর্ব বঙ্গের আরও হাজারো মানুষের মতো তিনিও বড় একটি ভুল করেছেন – তিনি পালাচ্ছেন, কিন্তু পালাচ্ছেন পাকিস্তানী পেট্টোলের সামনে দিয়ে। তার বয়স ২৪, সৈন্যরা তাকে ঘিরে ফেলেছে। তিনি কাঁপছেন, কারণ তিনি এখনই গুলির শিকার হতে যাচ্ছেন।

সাধারণত দৌড়ানো অবস্থায়ই আমরা তাকে হত্যা করতাম, খোশগল্পের ছলে আমাকে জানিয়েছিলেন মেজর রাঠোর, জি-২ অপারেশন্স, ৯ম ডিভিশন। আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম কুমিল্লার বিশ মাইল দক্ষিণে মুদাফারগঞ্জের কাছে ছোট একটি গ্রামের প্রান্তে। ‘শুধু আপনার খাতিরে আমরা তাকে চেক করছি। আপনি এখানে নতুন, আর আমার মনে হচ্ছে আপনার পেটের পীড়া আছে।’’

এভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের বর্বরতার চিত্র শুরু করেছিলেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। ইতিহাস পাল্টে দেয়া প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের দ্য সানডে টাইমস পত্রিকায়, আর এর মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে ঠিক কীভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিদারুণ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল বাংলাদেশে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৩ জুন। ‘GENOCIDE’ শিরোনামে দুই পাতায় ১৬ কলাম জুড়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে প্রতিবেদনটি ছেপেছিল লন্ডনভিত্তিক পত্রিকাটি। বিশ্ববাসীর জন্য প্রতিবেদনটি এক চরম বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।

‘জেনোসাইড’: ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর একটি

এতটা সহজ ছিল না…

১৯৭১ সালের এপ্রিলে পূর্ব পাকিস্তানে পর্যবেক্ষণ শেষে পশ্চিম পাকিস্তানে অ্যান্থনি মাসকারেনহাস বুঝতে পারেন, তিনি যা দেখেছেন পাকিস্তান থেকে সেটা লেখা সম্ভব নয়। কারণ গণমাধ্যমের সব প্রতিবেদনই সেখানে সেন্সর করা হয় এবং তিনি যদি সেই চেষ্টা করেন, তাকে হয়তো গুলি করেই মারা হবে।

অসুস্থ বোনকে দেখার নাম করে মাসকারেনহাস তখন লন্ডনে চলে যান। এরপর সরাসরি লন্ডন টাইমসের সম্পাদকের দপ্তরে যান। তিনি তাকে বলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানে পরিকল্পিত গণহত্যার একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং সেনা কর্মকর্তাদের বলতে শুনেছি, এটাই একমাত্র সমাধান।’

সানডে টাইমস–এর সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্স প্রতিবেদনটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বলেন যে তার আগে করাচি থেকে তার স্ত্রী আর সন্তানদের বের করে আনতে হবে। সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্স এবং অ্যন্থনি মাসকারেনহাস সিদ্ধান্ত নেন তাদের প্রস্তুত করতে একটি সংকেতমূলক টেলিগ্রাম পাঠানো হবে, যেখানে লেখা হবে, ‘তার বোনের অপারেশন সফল হয়েছে।’

তার স্ত্রী ইয়ন মাসকারেনহাস বলছেন, ‘পরদিন ভোর তিনটায় আমি টেলিগ্রামটি পাই। তখন আমার মনে হয়েছিল, ও ঈশ্বর, এখন আমাদের লন্ডন যেতে হবে। আমাকে সবকিছু এখানে ফেলে রেখে যেতে হবে। এটা যেন শেষকৃত্যের মতো একটা ব্যাপার ছিল।’

সন্দেহ এড়াতে পরিবার রওনা হবার আগেই অ্যান্থনি মাসকারেনহাস আবার পাকিস্তানে ফিরে যান। কিন্তু তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তানী নাগরিকরা বছরে একবার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। তাই পরিবার চলে যাওয়ার পর তিনি সড়ক পথে গোপনে সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে ঢুকে পড়েন।

যেদিন লন্ডনে পুরো পরিবার আবার একত্রিত হয়, তার পরের দিন ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের সানডে টাইমস তাদের প্রথম পাতায় এবং সেন্টার পেজে (১৪ ও ১৫ পাতায়) ‘গণহত্যা’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করে এবং একই সঙ্গে ‘হত্যা বন্ধ কর’ (Stop killing) শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় লেখে।

প্রতিবেদনটির ফলাফল

জেনোসাইড প্রতিবেদনটি খুবই শক্তিশালী একটি প্রতিবেদন ছিল, কারণ মাসকারেনহাস পাকিস্তানী সামরিক অফিসারদের খুবই বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেন।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্বের ইতিহাস নিয়ে অ্যান্থনির লেখা ‘দ্য রেপ অব বাংলাদেশ’

কখনো কখনো একটি প্রতিবেদনেও বদলে যেতে পারে ইতিহাস। ঠিক যেমনটি মাসকারেনহাসের এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরই মোড় ঘুড়ে গিয়েছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গতিপথের। মাসকারেনহাসের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানি হানাদারদের দমন-পীড়ন ও নিষ্ঠুরতার চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদনের একজন সরাসরি পাঠক ছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এই প্রতিবেদনটি। লেখাটি পড়ে তিনি পূর্ব বাংলার মানুষের সাথে এত বেশি আবেগিক সংযোগ অনুভব করেছিলেন যে, নতুন উদ্যমে তিনি ইউরোপীয় রাজধানীগুলো আর মস্কোতে ব্যক্তিগতভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন, যেন ভারত চলমান এই মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।

বিবিসি’র মার্ক ডামেট লিখেছেন, এই প্রতিবেদন সারা বিশ্বকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্ষুব্ধ আর ভারতকে শক্ত ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেছিল।

এই প্রতিবেদনের প্রভাব ছিল এত বেশি যে, এই প্রতিবেদন প্রকাশকে পাকিস্তান প্রতারণা হিসাবে দেখেছে এবং অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে ‘শত্রু এজেন্ট’ হিসাবে গণ্য করেছে। তার এই প্রতিবেদনের তথ্যকে তারা অস্বীকার করে একে ভারতীয় প্রোপাগান্ডা হিসাবে দাবি করেছিলো।

আজও স্মরণ করা হয় মাসকারেনহাসকে

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ছিলেন খুব সাহসী একজন সাংবাদিক। তিনি জানতেন এই সংবাদ প্রকাশের আগেই তৎকালীন সেনা-শাসিত পাকিস্তান থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে তাকে বেরিয়ে যেতে হবে – যা ওই সময়ে খুব সহজ কাজ ছিল না। তিনি বলেন, আমি যা দেখেছি, সেটা যদি আমি লিখতে না পারি, তাহলে আমি আর কখনোই অন্য কোন কিছু লিখতে পারবো না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অ্যন্থনি মাসকারেনহাস এর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাই তো বাংলাদেশে তাকে আজও স্মরণ করা হয়, এবং তার বিখ্যাত প্রতিবেদনটিও সংরক্ষিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। এছাড়াও বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্বের ইতিহাসের উপর লেখা ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘দ্য রেপ অব বাংলাদেশ’ এবং ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ’ বই দুইটি আমাদের সঠিক ইতিহাস জানতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

১৯৮৬ সালের ৬ই ডিসেম্বর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইংল্যান্ডের লন্ডনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

একটি মন্তব্য করে যান

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন