ভারত ঠিক করছে না: এম্পায়ারকে আরব আমিরাতের রাজকুমারী

আরব আমিরাতের রাজকুমারী হেন্দ আল কাসিমি

হেন্দ আল কাসিমি। তিনি আরব আমিরাতের রাজকুমারী। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত নারীও বটে। ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান শত্রুতা সম্পর্কে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ স্থানীয় একটি পত্রিকায় তিনি নিবন্ধও লিখেছেন। বিষয়টির জের ধরে তিনি এম্পায়ার-এর মুখোমুখি হয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মান্দিরা নায়ার—

ভারতীয় উদ্যোক্তা সৌরভ উপাধ্যায়ের মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আপনি। যে কারণে আপনি বেশ আলোচিত হলেন। তবে আপনার উদ্দেশ্য কী?

হেন্দ আল কাসিমি: ভারতে কিন্তু নতুন কিছু ঘটছে না। এমনটা গত কয়েক বছর ধরেই চলছে। শুধু হিন্দুরাই ভালো; মুসলমান, খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুরা অচ্ছুত – এমন ভারত চেয়েছিলেন গান্ধী? অথচ দেখুন হঠাৎ যেন নাৎসি যুগ ফিরে আসছে ভারত। যা দেশটি ঠিক করছে না।

হ্যাঁ, ইসলামের নামে অনেকেই এমন কিছু করছেন যা ইসলামিক নয়। মুসলিম পণ্ডিতরা সেগুলো অনুমোদন করেন না। কোন উপাসনালয় ভাঙ্গার অনুমতি ইসলাম দেয়নি, এমনকি যুদ্ধের সময়ও।  নারী ও শিশুকেও আঘাত করা যাবে না। বৃক্ষ ও ফসলের ক্ষতি করতেও না করা হয়েছে।

চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিল মোগলরা। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নয়। বিষয়টা সবারই জানা উচিত। এখন ৭০০ বছর পর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। কারণ এটা হয়েছে চোখের বদলে চোখ নেয়ার মতো করে। এটা না হয় মানলাম হিন্দু মন্দিরের উপর বানানো হয়েছে যুক্তিতে। কিন্তু মুসলমাদের কেন বয়কট করা হবে সেটা আমার বুঝে আসছে না।

এটা মনে রাখতে হবে, ভারত থেকে হিন্দু ধর্মকে কেউ যেমন মুছে ফেলতে পারবে না তেমনি ইসলামকেও মুছে ফেলা যাবে না। সেখানে হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে ইসলামের।

এই প্রসঙ্গের জেরে ভারত-আরব আমিরাত সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কী?

হেন্দ আল কাসিমি: ভারত ও আরব আমিরাতের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্ব রয়েছে। আমিরাতে ভারতীয়দের সবসময় স্বাগত জানানো হয়েছে কারণ তাদেরকে আমরা কখনো শত্রু ভাবিনি। তবে আমরা চাই ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ইসলামোফোবিয়ার অবসান হোক।

আরব আমিরাতের মানুষ খুবই সচেতন। তারা দেখছে, ভারতে মুসলিমদের সঙ্গে কী হচ্ছে। আমি শুনেছি ভারতে আটক কেন্দ্র বানানো হচ্ছে। চীনে ১.৮ মিলিয়ন ইউঘুর মুসলমানকে নাকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ভারতেও এমনটি হওয়া উদ্বেগজনক।

ভারতে হেন্দ আল কাসিমি; চড়েছেন অটোতে

এই যে বললেন ইসলামোফোবিয়া; কিন্তু ভারত সরকার যা করছে তা কি যথেষ্ট মনে হচ্ছে না?

হেন্দ আল কাসিমি: বিষয়টিতে ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে আমি হতাশ। তারা মনে করে বিষয়টি উপেক্ষা করলেই সব কিছু চলে যাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সচেনতা বাড়ছে। শুধু আরব বিশ্বেই নয়… ইন্দোনেশিয়াতে সবচেয়ে বেশি মুসলমান রয়েছে। তোমরা কি মনে করো বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ও মালয়েশিয়ার মুসলমানরা চুপ করে থাকবে? এর ফল শুধু ভারতের হিন্দুরাই ভোগ করবে না, এর ডোমিনো ইফেক্টও হবে।

এবার আরব আমিরাত প্রসঙ্গে আসি। এখানে হিন্দুদের ওপর আঘাত আসতে পারে?

হেন্দ আল কাসিমি: আরব আমিরাত খুবই সহনশীল দেশ। কিন্তু এখন হিন্দুদের ব্যাপারে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আগে এমনটা ছিলো না। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া ঘোষণা এবং পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। যা নিয়ে আমরা বিব্রত ও চিন্তিত।

পরিশেষে কী বলতে চান?

হেন্দ আল কাসিমি: উপাধ্যায়ের মতো যেসব লোক আমার ধর্ম, আমার নবী, আমার দেশ, আমার জীবিকা ও আমার জাতিগত বিষয়ের উপর হামলা করছে আমি শুধু তাদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। ভারতে শিগগিরই মুসলিম বিরোধী মনোভাবের অবসান ঘটবে, সেই আশা আমি করি।

পরিস্থিতি সংশোধনের কোনো আশা দেখছেন?

হেন্দ আল কাসিমি: হ্যাঁ, কারণ এটা ভারত। ভারতও আরব আমিরাতের মতো একটি মানব মিলন কেন্দ্র। আমরা ভারতের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হই।

একটি মন্তব্য করে যান

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন