কাপ্তাই লেকে রোমাঞ্চকর যাত্রা

কাপ্তাই লেক

সকালেও জানা ছিল না, দেশের সবচেয়ে সুন্দর নৌ-ভ্রমণ শুরু করছি আমরা। টলমলে স্বচ্ছ জলের বুকে ছুটে চলছে ছোট ছোট লঞ্চ। লেকের মাঝে একটু পরপরই ছোট দ্বীপের মতো কিছু উঁচু ভূমি, সেখানে চলছে কৃষি কাজ। কেউ কেউ ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরছে। দু-পাশে বিশাল পাহাড়ের সারি আর স্বচ্ছ জলে শুভ্র বকের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে চোখের নিমেষেই কেটে যায় লংগদু! রাঙ্গামাটির সাড়ে ৩ ঘণ্টার এই স্টিমার জার্নি যেন দেখতে দেখতেই শেষ!

লংগদুর বিষয়ে অনেকেরই কমবেশি অজানা। অথচ কাপ্তাই লেকের ভেতর দিয়ে এখানে যাতায়াতের লঞ্চ জার্নিটা সারাজীবন মনে রাখার মতো। কী চোখে পড়ে না এই যাত্রায়? দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, পাহাড়, ভ্যালি, তার মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা বয়ে যাওয়া খাল। সবকিছু মিলিয়ে এটা অন্য এক জগত্।

কাকডাকা ভোরের হালকা হেমন্তের কুয়াশায় সেনানিবাস এলাকা থেকে অটোরিকশায় রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাট। সেখানে ছাড়ার অপেক্ষায় প্রায় ২শ’ মানুষ ধারণক্ষমতার স্টিমার এমভি শামীম। সত্তরোর্ধ্ব সারেং মো. আলীর জোরালো সাইরেনে ঝটপট নাস্তা সেরে আসন নেওয়া হলো দোতলায়। কাঠের কাঠামোর এই স্টিমারটি গন্তব্য উত্তরের দুর্গম উপজেলা লংগদু।

দুর্গম এলাকা, একদিনে যাওয়া-আসা কঠিন। সে কারণেই হয়তো পর্যটকের সংখ্যা হাতেগোনা। এসব লঞ্চে স্থানীয়দের যাতায়াতই বেশি। যা হোক, লেকের সবুজাভ স্বচ্ছ জল ঠেলে এগুতে লাগলো লঞ্চ। জারুলছড়ির কাছে আসতে লাগলো আধাঘণ্টা। ততক্ষণে টের পেলাম এর রূপ! ডানে পূর্বদিকে যে চ্যানেলটি চলে গেছে জারুলছড়ির দিকে সেখানে পানির ওপর যেন ভেসে ছিল ড্রাগন প্রতিমূর্তি। পাহাড়ি গ্রাম জারুলছড়ি ছাড়াতেই স্বাগত জানালো বরকল উপজেলা। দু-পাশের সবুজ বড় বড় বৃক্ষঘেরা পাহাড়গুলো ক্রমে ছুঁতে লাগলো আকাশ! আরেকটু এগিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছালো রাঙামাটির পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম স্পট শুভলং ঝরনা। কিন্তু আমাদের স্টিমার তো ভিড়বে না। দূর থেকে ছবি তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।

স্টিমার চলছে। হ্রদে দেখা মিলছে নানা জাতের গাঙচিল, বড় ও ছোট পানকৌড়ি আর বড় বড় কালচে ভোদর। শীতের আগে আসে প্রচুর পরিযায়ী পাখি। তখন সৌন্দর্যের ঝিলিমিলি খেলে যায়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নৌকার শব্দে বা তাড়ায় অদূরে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই উড়াল, এই ঝাঁপ। হ্রদের কূলে পাহাড়ের গাছপালার ফাঁকে পর্যটনের কুঁড়েঘর, সেগুলোতে থাকাও যায়।

রোমাঞ্চকর এই যাত্রায় এমন দৃশ্য চোখে পড়বে

শুভলংয়ে ধনা মিয়ার দ্বীপ মাজার পেরিয়ে স্টিমারের গতিমুখ যখন ৯ নম্বর হাজাছড়ার দিকে তখন পূর্বের আলো পশ্চিমের আকাশে পড়ে নীল-সবুজ রঙে ছবি আঁকছে লেকের স্বচ্ছ পানিতে। স্টিমারটি যখন ১০ নম্বর বরুণছড়ি পার হলো তখন সৌন্দর্য রূপ বদলালো। সে সুন্দরকে কী বলা যায় ঠিক জানি না, বলা যায়, সৌন্দর্যের সৌন্দর্য বেড়ে গেল আরো।

তারপরই আমরা পৌঁছে গেলাম কাট্টলি বিলে। এটিও লেকেরই অংশ। দেশি মাছের প্রজনন ও উত্পাদনের জন্য বিখ্যাত। মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে দ্বীপের বুকে গড়ে উঠেছে বাজার। জেলেদের নৌকা মেরামতের সরঞ্জাম আর শুটকিপল্লী গড়ে উঠেছে এই বাজারে। বাজারের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বাঙালি। জলের জীবন দেখতে দেখতে চলেছি কাট্টলি বিলের দিকে। দেখি দূরের পাহাড়গুলোকে চুম বুলিয়ে নীল মেঘ অবারিত জলরাশিকে নিজের রঙয়ে রাঙিয়ে দিয়ে ভেসে বেড়ায়। জলের বুকে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক। বেশ কয়েক বছর ধরে অতিথি পাখির সমাগম ঘটে কাট্টলি বিলে।

পর্যটকরা আসেন না কাট্টলি বিলে! কারণ তারা জানেন না এদিকটা কতটুকু সুন্দর। সাড়ে ৩ ঘণ্টার যাত্রাপথ সত্যি সব কষ্ট, বেদনা, ইহ জাগতিক বিরক্ত অনুভূতি ভুলিয়ে দেওয়ার মতো। সব উবিয়ে দেওয়ার মতো রূপের সব ডালি সাজিয়ে বসে আছে লংগদু পর্যন্ত। যতই ভুলে থাকতে চাই এখানে এলে মনে পড়বেই কবির সেই চিরসত্য চরণ, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া…সকালেও জানা ছিল না, দেশের সবচেয়ে সুন্দর নৌ-ভ্রমণ শুরু করছি আমরা। টলমলে স্বচ্ছ জলের বুকে ছুটে চলছে ছোট ছোট লঞ্চ। লেকের মাঝে একটু পরপরই ছোট দ্বীপের মতো কিছু উঁচু ভূমি, সেখানে চলছে কৃষি কাজ। কেউ কেউ ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরছে। দু-পাশে বিশাল পাহাড়ের সারি আর স্বচ্ছ জলে শুভ্র বকের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে চোখের নিমেষেই কেটে যায় লংগদু! রাঙ্গামাটির সাড়ে ৩ ঘণ্টার এই স্টিমার জার্নি যেন দেখতে দেখতেই শেষ!

লংগদুর বিষয়ে অনেকেরই কমবেশি অজানা। অথচ কাপ্তাই লেকের ভেতর দিয়ে এখানে যাতায়াতের লঞ্চ জার্নিটা সারাজীবন মনে রাখার মতো। কী চোখে পড়ে না এই যাত্রায়? দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, পাহাড়, ভ্যালি, তার মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা বয়ে যাওয়া খাল। সবকিছু মিলিয়ে এটা অন্য এক জগত্।

কাকডাকা ভোরের হালকা হেমন্তের কুয়াশায় সেনানিবাস এলাকা থেকে অটোরিকশায় রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাট। সেখানে ছাড়ার অপেক্ষায় প্রায় ২শ’ মানুষ ধারণক্ষমতার স্টিমার এমভি শামীম। সত্তরোর্ধ্ব সারেং মো. আলীর জোরালো সাইরেনে ঝটপট নাস্তা সেরে আসন নেওয়া হলো দোতলায়। কাঠের কাঠামোর এই স্টিমারটি গন্তব্য উত্তরের দুর্গম উপজেলা লংগদু।

দুর্গম এলাকা, একদিনে যাওয়া-আসা কঠিন। সে কারণেই হয়তো পর্যটকের সংখ্যা হাতেগোনা। এসব লঞ্চে স্থানীয়দের যাতায়াতই বেশি। যা হোক, লেকের সবুজাভ স্বচ্ছ জল ঠেলে এগুতে লাগলো লঞ্চ। জারুলছড়ির কাছে আসতে লাগলো আধাঘণ্টা। ততক্ষণে টের পেলাম এর রূপ! ডানে পূর্বদিকে যে চ্যানেলটি চলে গেছে জারুলছড়ির দিকে সেখানে পানির ওপর যেন ভেসে ছিল ড্রাগন প্রতিমূর্তি। পাহাড়ি গ্রাম জারুলছড়ি ছাড়াতেই স্বাগত জানালো বরকল উপজেলা। দু-পাশের সবুজ বড় বড় বৃক্ষঘেরা পাহাড়গুলো ক্রমে ছুঁতে লাগলো আকাশ! আরেকটু এগিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছালো রাঙামাটির পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম স্পট শুভলং ঝরনা। কিন্তু আমাদের স্টিমার তো ভিড়বে না। দূর থেকে ছবি তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।

স্টিমার চলছে। হ্রদে দেখা মিলছে নানা জাতের গাঙচিল, বড় ও ছোট পানকৌড়ি আর বড় বড় কালচে ভোদর। শীতের আগে আসে প্রচুর পরিযায়ী পাখি। তখন সৌন্দর্যের ঝিলিমিলি খেলে যায়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নৌকার শব্দে বা তাড়ায় অদূরে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই উড়াল, এই ঝাঁপ। হ্রদের কূলে পাহাড়ের গাছপালার ফাঁকে পর্যটনের কুঁড়েঘর, সেগুলোতে থাকাও যায়।

শুভলংয়ে ধনা মিয়ার দ্বীপ মাজার পেরিয়ে স্টিমারের গতিমুখ যখন ৯ নম্বর হাজাছড়ার দিকে তখন পূর্বের আলো পশ্চিমের আকাশে পড়ে নীল-সবুজ রঙে ছবি আঁকছে লেকের স্বচ্ছ পানিতে। স্টিমারটি যখন ১০ নম্বর বরুণছড়ি পার হলো তখন সৌন্দর্য রূপ বদলালো। সে সুন্দরকে কী বলা যায় ঠিক জানি না, বলা যায়, সৌন্দর্যের সৌন্দর্য বেড়ে গেল আরো।

তারপরই আমরা পৌঁছে গেলাম কাট্টলি বিলে। এটিও লেকেরই অংশ। দেশি মাছের প্রজনন ও উত্পাদনের জন্য বিখ্যাত। মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে দ্বীপের বুকে গড়ে উঠেছে বাজার। জেলেদের নৌকা মেরামতের সরঞ্জাম আর শুটকিপল্লী গড়ে উঠেছে এই বাজারে। বাজারের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বাঙালি। জলের জীবন দেখতে দেখতে চলেছি কাট্টলি বিলের দিকে। দেখি দূরের পাহাড়গুলোকে চুম বুলিয়ে নীল মেঘ অবারিত জলরাশিকে নিজের রঙয়ে রাঙিয়ে দিয়ে ভেসে বেড়ায়। জলের বুকে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক। বেশ কয়েক বছর ধরে অতিথি পাখির সমাগম ঘটে কাট্টলি বিলে।

পর্যটকরা আসেন না কাট্টলি বিলে! কারণ তারা জানেন না এদিকটা কতটুকু সুন্দর। সাড়ে ৩ ঘণ্টার যাত্রাপথ সত্যি সব কষ্ট, বেদনা, ইহ জাগতিক বিরক্ত অনুভূতি ভুলিয়ে দেওয়ার মতো। সব উবিয়ে দেওয়ার মতো রূপের সব ডালি সাজিয়ে বসে আছে লংগদু পর্যন্ত। যতই ভুলে থাকতে চাই এখানে এলে মনে পড়বেই কবির সেই চিরসত্য চরণ, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া…

একটি মন্তব্য করে যান

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন